রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ
Rashtriya Swayamsevak Sangh (RSS) — ভারতের সর্ববৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী জাতীয়তাবাদী সংগঠন
- পূর্ণ নাম
- রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ
- ইংরেজি নাম
- Rashtriya Swayamsevak Sangh (RSS)
- সংক্ষেপ
- আরএসএস (RSS)
- প্রতিষ্ঠা
- ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯২৫
- প্রতিষ্ঠাতা
- ডা. কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার
- প্রধান (সরসঙ্ঘচালক)
- ডা. মোহন ভাগবত (২০০৯–বর্তমান)
- সাধারণ সম্পাদক
- দত্তাত্রেয় হোসবালে
- মুখপত্র
- Organiser (ইংরেজি), পঞ্চজন্য (হিন্দি)
- মূল দর্শন
- হিন্দুত্ব, একাত্ম মানববাদ, দেশীয় জাতীয়তাবাদ
- সদর দপ্তর
- নাগপুর, মহারাষ্ট্র, ভারত
- স্বেচ্ছাসেবক
- প্রায় ৫–৬ মিলিয়ন (সক্রিয়)
- শাখা
- ৮৫,০০০+ (সারা ভারতে)
- অনুষঙ্গ
- ৪৬+ সংগঠন
সূচিপত্র
ভূমিকা ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) হল ভারতের একটি স্বেচ্ছাসেবী, অরাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও জাতীয়তাবাদী সংগঠন। ১৯২৫ সালে ডা. কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার মহারাষ্ট্রের নাগপুরে এই সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি বিশ্বের বৃহত্তম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির中的一个, যার ৮৫,০০০-এরও বেশি শাখা এবং প্রায় ৫–৬ মিলিয়ন সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে।
সংঘের মূল লক্ষ্য হল ভারতীয় জাতি, সংস্কৃতি ও সভ্যতার পুনর্জাগরণের মাধ্যমে ভারতের চরিত্র গঠন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম একটি জাতীয় সম্প্রদায় তৈরি করা। সংঘ নিজেকে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে এবং সরাসরি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে না। তবে সংঘের আদর্শ ও দর্শন দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে অসংখ্য অনুষঙ্গ সংগঠন বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে — রাজনীতি, শিক্ষা, শ্রম, কৃষি, ধর্ম, সংস্কৃতি, সেবা, বিজ্ঞান, ক্রীড়া, সাহিত্য, মিডিয়া, নারী ও যুব উন্নয়ন, আদিবাসী কল্যাণ, এবং আরও অনেক কিছু।
সংঘের দৈনন্দিন কার্যক্রমের মূল ভিত্তি হল "শাখা" — একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য (সাধারণত এক ঘণ্টা) অনুষ্ঠিত দলগত মিলন যেখানে যোগব্যায়াম, খেলাধুলা, আলোচনা ও প্রার্থনা করা হয়। এই শাখা পদ্ধতির মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকরা শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও চরিত্র গঠনের শিক্ষা লাভ করেন। সংঘের বার্ষিক প্রশিক্ষণ শিবির, অধিবেশন ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকদের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতা বিকশিত হয়।
সংঘের প্রভাব ভারতের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জীবনে সুগভীর। সংঘ-সমর্থিত ও অনুপ্রাণিত রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বর্তমানে কেন্দ্রে সরকার গঠন করেছে এবং একাধিক রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে। সংঘের সেবা ও সমাজকল্যাণমূলক সংস্থাগুলি দেশের দূরবর্তী অঞ্চলেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ত্রাণ ও উন্নয়নমূলক কাজ করে।
ইতিহাস (১৯২৫–বর্তমান)
প্রতিষ্ঠা ও প্রাথমিক যুগ (১৯২৫–১৯৪০)
১৯২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর, মহারাষ্ট্রের নাগপুর শহরে, ডা. কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার মাত্র কয়েকজন অনুগামীকে নিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। হেডগেওয়ার ছিলেন একজন চিকিৎসক ও স্বাধীনতা সংগ্রামী। তিনি অনুভব করেছিলেন যে ভারতের সাংস্কৃতিক ও জাতীয় পুনর্জাগরণের জন্য একটি শক্তিশালী, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও আদর্শনিষ্ঠ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রয়োজন।
হেডগেওয়ারের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল ১৯২১ সালে কংগ্রেসের অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও পরবর্তীতে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার অভিজ্ঞতা। তিনি দেখেছিলেন যে রাজনৈতিক আন্দোলন যথেষ্ট নয় — দেশের চরিত্র গঠনের জন্য একটি গভীর ও টেকসই সাংস্কৃতিক জাগরণ প্রয়োজন। এই চিন্তা থেকে সংঘের জন্ম।
প্রথম শাখা শুরু হয় নাগপুরে। ধীরে ধীরে শাখার সংখ্যা বাড়তে থাকে। ১৯২৯ সালে প্রথম সংঘ শিবির অনুষ্ঠিত হয়, যা স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণের ভিত্তি স্থাপন করে। ১৯৩০-এর দশকে সংঘ মহারাষ্ট্রের বাইরেও বিস্তার লাভ করে। হেডগেওয়ারের নেতৃত্বে সংঘের কাঠামো ও শৃঙ্খলা দৃঢ় হয়। তিনি ১৯৪০ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সংঘের সরসঙ্ঘচালক ছিলেন।
গোলওয়ালকর যুগ (১৯৪০–১৯৭৩)
হেডগেওয়ারের মৃত্যুর পর শ্রী গুরু গোলওয়ালকর (শ্রীগুরুজি) দ্বিতীয় সরসঙ্ঘচালক হন। তাঁর নেতৃত্বের সময়কাল ছিল সংঘের জন্য চ্যালেঞ্জিং ও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হলে সংঘ দেশসেবায় মনোনিবেশ করে। কিন্তু ১৯৪৮ সালে মহাত্মা গান্ধীর হত্যার পর সংঘের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। গোলওয়ালকর ও অন্যান্য নেতাদের গ্রেফতার করা হয়।
গান্ধী হত্যাকাণ্ডের সাথে সংঘের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না — পরবর্তীতে তদন্ত কমিশনও এ কথা স্বীকার করে। ১৯৪৯ সালে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয় এবং সংঘ পুনরায় কাজ শুরু করে। এই ঘটনা সংঘের দৃঢ়তা ও অধ্যবসায়কে প্রতিষ্ঠিত করে। গোলওয়ালকরের নেতৃত্বে সংঘের শাখার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘের বিস্তার ঘটে।
গোলওয়ালকর "বাঞ্ছিত ভারত" বা "We or Our Nation Defined" গ্রন্থে সংঘের দর্শন ও ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ধারণা সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেন। তাঁর সময়েই সংঘের বিভিন্ন অনুষঙ্গ সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করে — যেমন ১৯৫১ সালে ভারতীয় জন সংঘ, ১৯৫৫ সালে ভারতীয় মজদুর সংঘ, ১৯৬৪ সালে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।
দেওরাস ও পরবর্তী নেতৃত্ব (১৯৭৩–২০০০)
১৯৭৩ সালে মধুকর দত্তাত্রেয় দেওরাস তৃতীয় সরসঙ্ঘচালক হন। তাঁর নেতৃত্বে সংঘ আরও গণমুখী ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে মনোযোগ দেয়। ১৯৭৫–৭৭ সালের জরুরি অবস্থার সময় সংঘের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবককে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু জরুরি অবস্থা শেষে সংঘ পুনরায় সংগঠিত হয় এবং আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
দেওরাসের সময়েই ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮০-৯০-এর দশকে রাম জন্মভূমি আন্দোলনে সংঘ ও তার অনুষঙ্গগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৯২ সালে দেওরাসের মৃত্যুর পর রাজেন্দ্র সিং (রাজ্জু ভাইয়া) চতুর্থ সরসঙ্ঘচালক হন এবং ২০০০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
রাজ্জু ভাইয়ার নেতৃত্বে সংঘের সামাজিক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত হয়। তাঁর সময়ে সংঘ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ কাজ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রকল্পে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করে। তিনি ১৯৯৪ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সরসঙ্ঘচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
আধুনিক যুগ (২০০০–বর্তমান)
২০০০ সালে কে.এস. সুদর্শন পঞ্চম সরসঙ্ঘচালক হন। তাঁর নেতৃত্বে সংঘ আরও সুসংগঠিত হয় এবং বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা নেয়। ২০০৯ সালে ডা. মোহন ভাগবত ষষ্ঠ ও বর্তমান সরসঙ্ঘচালক হন।
ডা. মোহন ভাগবতের নেতৃত্বে সংঘের প্রভাব ও পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪ সালে বিজেপি কেন্দ্রে সরকার গঠনের পর সংঘ-সরকার সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায়। ভাগবতের নেতৃত্বে সংঘ সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রবেশ করেছে — দলিত, আদিবাসী, মহিলা ও যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘের কর্মকাণ্ড সম্প্রসারিত হয়েছে।
২০২৫ সালে সংঘ শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমানে সংঘের ৮৫,০০০-এরও বেশি শাখা এবং প্রায় ৫–৬ মিলিয়ন সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে। সংঘের অনুষঙ্গ সংগঠনগুলির সংখ্যা ৪৬-এরও বেশি, যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে।
আদর্শ ও দর্শন
সংঘের আদর্শের মূল ভিত্তি হল "হিন্দুত্ব" — যা সংঘের ভাষায় ভারতীয় জাতি, সংস্কৃতি ও সভ্যতার মৌলিক চরিত্র। তবে প্রচলিত রাজনৈতিক অর্থে নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক ও জাতীয় পরিচয় হিসেবে সংঘ হিন্দুত্বকে দেখে। সংঘ মনে করে যে ভারত একটি প্রাচীন সভ্যতা ও জাতি, এবং ভারতের সাংস্কৃতিক মূল স্রোত হল হিন্দু সভ্যতা, যা সকল ভারতীয়কে এক সুতোয় বেঁধেছে।
সংঘের দর্শনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হল "একাত্ম মানববাদ" (Integral Humanism) — যা পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের দর্শন। এই মতবাদ অনুসারে মানব জীবনের চারটি লক্ষ্য — ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ — একটি সমন্বিত ও সামগ্রিক জীবনদর্শনের অংশ। একাত্ম মানববাদ ব্যক্তি, সমাজ, জাতি ও বিশ্বের মধ্যে সামঞ্জস্য স্থাপনের ওপর জোর দেয়।
সংঘের দর্শনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল:
- সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ: ভারত একটি জাতি, এবং তার পরিচয় তার প্রাচীন সভ্যতা ও সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে
- স্বদেশী: অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বনির্ভরতার ওপর জোর
- সমাজ সংস্কার: বর্ণপ্রথা, অস্পৃশ্যতা ও সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কাজ
- সেবা: সমাজ সেবাকে আধ্যাত্মিক ও জাতীয় কর্তব্য হিসেবে দেখা
- শৃঙ্খলা ও চরিত্র গঠন: শাখা পদ্ধতির মাধ্যমে চরিত্র গঠন ও নেতৃত্ব বিকাশ
- সমন্বয়: ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সামঞ্জস্য ও ঐক্য স্থাপন
সংঘ নিজেকে "সাংস্কৃতিক" সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করে — রাজনৈতিক নয়। সংঘের মতে, রাজনীতি সমাজের একটি ক্ষেত্র মাত্র, এবং একটি শক্তিশালী জাতি গঠনের জন্য সাংস্কৃতিক জাগরণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
গঠন ও কাঠামো
সংঘের সাংগঠনিক কাঠামো একটি সুশৃঙ্খল পিরামিডের মতো। সর্বোচ্চ নেতা হলেন "সরসঙ্ঘচালক" (Sarsanghchalak) — যিনি আজীবনের জন্য নিযুক্ত হন। তাঁকে সহায়তা করেন "সহ-সরসঙ্ঘচালক" (সহকারী সরসঙ্ঘচালক) ও "সরকার্যবাহ" (সাধারণ সম্পাদক)।
সংঘের কাঠামো নিম্নরূপ:
- সরসঙ্ঘচালক: সর্বোচ্চ নেতা; বর্তমানে ডা. মোহন ভাগবত
- সরকার্যবাহ: সাধারণ সম্পাদক; বর্তমানে দত্তাত্রেয় হোসবালে
- প্রচারক: পূর্ণকালীন স্বেচ্ছাসেবক যারা সংঘের কাজে জীবন উৎসর্গ করেছেন
- ক্ষেত্রীয় সংগঠক: রাজ্য ও জেলা স্তরের সংগঠক
- শাখা: মৌলিক একক; প্রতিদিন এক ঘণ্টার মিলন
সংঘের প্রশাসনিক কাঠামো:
- কেন্দ্রীয় স্তর: অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভা (সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক সংস্থা)
- প্রাদেশিক স্তর: রাজ্য ও অঞ্চলভিত্তিক সংগঠন
- জেলা স্তর: জেলা ও মহানগর সংগঠন
- স্থানীয় স্তর: শাখা ও নগর সংগঠন
সংঘের প্রায় ৮৫,০০০-এরও বেশি দৈনন্দিন শাখা সারা ভারতে পরিচালিত হয়। প্রতিটি শাখায় যোগব্যায়াম, শারীরিক ব্যায়াম, খেলাধুলা, প্রার্থনা ও দেশাত্মবোধক আলোচনা অন্তর্ভুক্ত থাকে। সংঘের পূর্ণকালীন প্রচারকদের সংখ্যা প্রায় ৬,০০০-এরও বেশি।
নেতৃত্ব (সরসঙ্ঘচালকগণ)
সংঘের ইতিহাসে মোট ছয়জন সরসঙ্ঘচালক (সর্বোচ্চ নেতা) দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের তালিকা নিম্নরূপ:
উল্লেখযোগ্য অন্যান্য নেতারা: দত্তাত্রেয় হোসবালে (বর্তমান সাধারণ সম্পাদক), পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় (একাত্ম মানববাদ দর্শনের প্রবক্তা), নানাজী দেশমুখ (সমাজ সংস্কারক), বালাসাহেব দেওরাস (প্রাক্তন সহ-সরসঙ্ঘচালক) প্রমুখ।
অনুষঙ্গ সংগঠনসমূহ (RSS Wings)
সংঘ পরিবার (Sangh Parivar) বলতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ ও তার সমস্ত অনুষঙ্গ সংগঠনকে বোঝায়। বর্তমানে ৪৬-এরও বেশি অনুষঙ্গ সংগঠন বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে। নিচে প্রতিটি অনুষঙ্গ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
রাজনৈতিক অনুষঙ্গ
ভারতীয় জন সংঘ (Bharatiya Jana Sangh)
ভারতীয় জন সংঘ ছিল সংঘ পরিবারের প্রথম রাজনৈতিক দল। ১৯৫১ সালে ডা. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী এটি প্রতিষ্ঠা করেন। জন সংঘ ভারতীয় জাতীয়তাবাদ, এক দেশ এক আইন (সমগ্র ভারতের জন্য একক নাগরিক আইন), কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপ এবং স্বদেশী অর্থনীতির পক্ষে কাজ করে। ১৯৭৭ সালে জনতা পার্টি গঠনে জন সংঘ মূল ভূমিকা পালন করে এবং ১৯৮০ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) গঠিত হলে জন সংঘ তার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।
ভারতীয় জনতা পার্টি — বিজেপি (Bharatiya Janata Party)
ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) হল ভারতের একটি প্রধান জাতীয় রাজনৈতিক দল, যা ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি জন সংঘের উত্তরসূরি এবং সংঘ পরিবারের রাজনৈতিক শাখা হিসেবে পরিচিত। বিজেপির মূল আদর্শ হল "একাত্ম মানববাদ" (Integral Humanism) — যা পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের দর্শন। দলটি সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জাতীয় নিরাপত্তা ও সুশাসনের ওপর জোর দেয়।
বিজেপি ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রে সরকার গঠন করে (১৩ দিনের জন্য)। ১৯৯৮–২০০৪ পর্যন্ত অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে সরকার চালায়। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে এবং ২০১৯ ও ২০২৪ সালেও সরকার গঠন করে। বর্তমানে বিজেপি দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল।
উল্লেখযোগ্য নেতা: অটল বিহারী বাজপেয়ী (প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী), লালকৃষ্ণ আদবানী (প্রাক্তন সভাপতি), নরেন্দ্র মোদী (প্রধানমন্ত্রী), অমিত শাহ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী), রাজনাথ সিং (প্রতিরক্ষামন্ত্রী), নীতিন গড়করি প্রমুখ।
ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা — বিজেওয়াইএম (Bharatiya Janata Yuva Morcha)
ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা হল বিজেপির যুব শাখা, যা তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার কাজ করে। এটি দেশব্যাপী যুব সম্মেলন, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, রাজনৈতিক শিক্ষা ও নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনা করে। যুব মোর্চার মাধ্যমে তরুণ রাজনৈতিক কর্মীরা দলে প্রবেশ করে এবং ভবিষ্যতের নেতা হিসেবে গড়ে ওঠে।
ছাত্র অনুষঙ্গ
অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ — এবিভিপি (Akhil Bharatiya Vidyarthi Parishad)
অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP) হল ভারতের বৃহত্তম ছাত্র সংগঠনগুলির একটি। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয়। ছাত্রসমাজ, শিক্ষা নীতি ও যুব নেতৃত্ব গঠনে ABVP গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারতীয় ছাত্রদের মধ্যে সাংস্কৃতিক চেতনা ও দেশপ্রেম বিকাশের লক্ষ্যে বিভিন্ন ক্যাম্পাস কর্মসূচি পরিচালনা করে।
ABVP ভারতের প্রায় ২০,০০০-এরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সক্রিয়। সংগঠনটি শিক্ষার অধিকার, শিক্ষার ভারতীয়করণ, ছাত্র কল্যাণ ও জাতীয় ঐক্যের পক্ষে কাজ করে। ABVP-র মাধ্যমে অসংখ্য ছাত্র নেতা পরবর্তীকালে রাজনীতি, প্রশাসন ও সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
শ্রমিক ও অর্থনৈতিক অনুষঙ্গ
ভারতীয় মজদুর সংঘ — বিএমএস (Bharatiya Mazdoor Sangh)
ভারতীয় মজদুর সংঘ (BMS) হল ভারতের একটি জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন, যা ১৯৫৫ সালে দত্তোপন্ত ঠেঙ্গাড়ী প্রতিষ্ঠা করেন। BMS বর্তমানে ভারতের বৃহত্তম ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন, যার ১০ মিলিয়নেরও বেশি সদস্য রয়েছে। শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি ও স্বদেশী শিল্পনীতি নিয়ে কাজ করে। ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী অবস্থান থেকে সক্রিয়।
BMS-এর মূল দর্শন হল "স্বদেশী" অর্থনীতি — যা দেশীয় শিল্প ও উৎপাদনকে উৎসাহিত করে এবং বিদেশি পণ্য ও পুঁজির আধিপত্যের বিরোধিতা করে। BMS শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, কাজের নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা ও জাতীয় স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করে।
ভারতীয় কিষাণ সংঘ — বিকেএস (Bharatiya Kisan Sangh)
ভারতীয় কিষাণ সংঘ (BKS) কৃষকদের স্বার্থ, ন্যায্য মূল্য, স্বদেশী কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির প্রশ্নে কাজ করে। কৃষক নেতৃত্ব গঠন ও কৃষি নীতি প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। BKS জৈব কৃষি, প্রাকৃতিক চাষ, মৃত্তিকা সংরক্ষণ ও গ্রামীণ স্বনির্ভরতার পক্ষে কাজ করে। এটি কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা — যেমন ফসলের ন্যায্যমূল্য, ঋণমুক্তি, সেচ ব্যবস্থা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়তা — নিয়ে সক্রিয়।
স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ (Swadeshi Jagran Manch)
স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ স্বদেশী অর্থনীতি, দেশীয় শিল্প, ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও নীতি বিশ্লেষণ নিয়ে কাজ করে। অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার পক্ষে জনমত গঠন করে। এই সংগঠনটি বিশ্বায়ন, উদারীকরণ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে দেশীয় উৎপাদন ও ভোগকে উৎসাহিত করে। স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ নিয়মিত সেমিনার, কর্মশালা ও প্রচার অভিযানের মাধ্যমে স্বদেশী চেতনা ছড়িয়ে দেয়।
লঘু উদ্যোগ ভারতী (Laghu Udyog Bharati)
লঘু উদ্যোগ ভারতী ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের একটি জাতীয় নেটওয়ার্ক। এটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন, নীতি-পক্ষসমর্থন ও দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কাজ করে। বিভিন্ন সরকারি নীতি ও বিধি-ব্যবস্থার সঙ্গে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সংযোগ স্থাপন করে এবং তাদের সমস্যা সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
সহকার ভারতী (Sahakar Bharati)
সহকার ভারতী সমবায় অর্থনীতি, স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও আর্থিক সমবায় সংগঠনে কাজ করে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে সমবায়ের গুরুত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করে। এটি কৃষি সমবায়, গ্রামীণ ব্যাংকিং, ক্ষুদ্র সঞ্চয় ও ঋণ ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার কাজ করে।
গৃহক পঞ্চায়েত — গ্রাহক পঞ্চায়েত (Grahak Panchayat)
গ্রাহক পঞ্চায়েত ভোক্তা অধিকার, ন্যায্য বাজার, সচেতনতা ও আইনি সহায়তা নিয়ে কাজ করে। এটি ভোক্তা সুরক্ষা আইন, পণ্যের গুণমান, মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তা শিক্ষার ক্ষেত্রে সক্রিয়।
ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ
বিশ্ব হিন্দু পরিষদ — ভিএইচপি (Vishva Hindu Parishad)
বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP) একটি বৈশ্বিক হিন্দু ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন, যা ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। হিন্দুধর্মের প্রচার-প্রসার, মন্দির সংরক্ষণ, তীর্থস্থান উন্নয়ন, ধর্মান্তকরণ বিরোধী কার্যক্রম ও হিন্দু অধিকার রক্ষায় VHP সক্রিয়। এটি সারা বিশ্বে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে সংযোগ ও সমন্বয় স্থাপনের কাজ করে।
VHP-র অঙ্গসংগঠনগুলি হল বজরং দল (যুব শাখা) ও দুর্গা বাহিনী (নারী যুব শাখা)। VHP রাম জন্মভূমি আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পরিচালনা করে।
বজরং দল (Bajrang Dal)
বজরং দল হল বিশ্ব হিন্দু পরিষদের যুব শাখা, যা ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। যুবসমাজ ও ধর্মীয় সেবামূলক কার্যক্রমে কাজ করে। তরুণ প্রজন্মকে সেবা, শৃঙ্খলা ও সাংস্কৃতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। বজরং দল হিন্দু যুবকদের শারীরিক ও নৈতিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে।
দুর্গা বাহিনী (Durga Vahini)
দুর্গা বাহিনী হল বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নারী যুব শাখা। ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি নারীদের আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পরিচালনা করে। নারী সশক্তিকরণ ও হিন্দু মূল্যবোধের প্রচারে কাজ করে।
ধর্ম জাগরণ সমন্বয় (Dharma Jagaran Samanvay)
ধর্ম জাগরণ সমন্বয় ধর্মীয় পরিচয়, ধর্মান্তকরণ, প্রত্যাবর্তন (ঘর ওয়াপসি) ও সামাজিক সংগঠনের প্রশ্নে কাজ করে। এটি বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে হিন্দু সমাজকে সংগঠিত করার চেষ্টা করে।
হিন্দু জাগরণ মঞ্চ (Hindu Jagran Manch)
হিন্দু জাগরণ মঞ্চ ধর্মান্তকরণ, ধর্মীয় পরিচয়, স্থানীয় ধর্মীয় অধিকার ও গণসংগঠনের বিষয়ে সক্রিয়। এটি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও হিন্দু সমাজের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে।
হিন্দু মুন্নানি (Hindu Munnani)
হিন্দু মুন্নানি তামিলনাড়ু ভিত্তিক একটি হিন্দু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। এটি দক্ষিণ ভারতে হিন্দু সমাজের সংগঠন ও সাংস্কৃতিক জাগরণের জন্য কাজ করে।
হিন্দু ঐক্য বেদী (Hindu Aikya Vedi)
হিন্দু ঐক্য বেদী কেরালা ভিত্তিক একটি হিন্দু ঐক্য প্ল্যাটফর্ম, যা হিন্দু সামাজিক সংহতি ও সংগঠনের জন্য কাজ করে।
সেবা ও সমাজসেবামূলক অনুষঙ্গ
সেবা ভারতী (Sewa Bharati)
সেবা ভারতী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বস্তি উন্নয়ন, ত্রাণ ও সমাজসেবামূলক প্রকল্প পরিচালনা করে। সর্বস্তরের মানুষের সেবাকে প্রধান লক্ষ্য রাখে। এটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বস্তি এলাকায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য শিবির, দুর্যোগে ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত অংশের উন্নয়নে কাজ করে। সেবা ভারতীর মাধ্যমে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রতিদিন সমাজসেবায় যুক্ত থাকেন।
ভারত বিকাশ পরিষদ — বিকেপি (Bharat Vikas Parishad)
ভারত বিকাশ পরিষদ একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন যা সেবা, সংস্কার, সহযোগিতা, সমর্পণ ও সম্পর্কের মাধ্যমে কাজ করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বস্তি উন্নয়ন, ত্রাণ ও সমাজসেবামূলক প্রকল্প পরিচালনা করে। এটি দেশের বিভিন্ন শহরে শাখার মাধ্যমে সমাজসেবামূলক কাজ করে।
বনবাসী কল্যাণ আশ্রম (Vanvasi Kalyan Ashram)
বনবাসী কল্যাণ আশ্রম ভারতের আদিবাসী (বনবাসী) সম্প্রদায়ের মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, হোস্টেল ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পরিচালনা করে। ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি দেশের বিভিন্ন রাজ্যে আদিবাসী অঞ্চলে কাজ করে। এটি আদিবাসী শিশুদের শিক্ষার জন্য হোস্টেল ও বিদ্যালয় পরিচালনা করে, স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করে এবং আদিবাসী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করে।
সামাজিক সমরসতা মঞ্চ (Samajik Samrasta Manch)
সামাজিক সমরসতা মঞ্চ জাতিগত বিভেদ, সামাজিক ঐক্য, সম্প্রীতি সম্মেলন ও সামাজিক সংলাপের জন্য কাজ করে। এটি অস্পৃশ্যতা ও জাতিগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সমন্বয় স্থাপনের চেষ্টা করে।
সক্ষম (Saksham)
সক্ষম প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, অধিকার, পুনর্বাসন ও ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করে। এটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে।
পূর্ব সৈনিক সেবা পরিষদ (Purva Sainik Seva Parishad)
পূর্ব সৈনিক সেবা পরিষদ প্রাক্তন সেনা সদস্য, তাদের পরিবার, জাতীয় নিরাপত্তা সচেতনতা ও সমাজসেবার জন্য কাজ করে। এটি প্রাক্তন সৈনিকদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনে সহায়তা করে।
শিক্ষা ও ভাষা অনুষঙ্গ
বিদ্যা ভারতী (Vidya Bharati)
বিদ্যা ভারতী ভারতীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসারে কাজ করে। এটি দেশের বৃহত্তম বেসরকারি স্কুল নেটওয়ার্ক, যা ২০,০০০-এরও বেশি বিদ্যালয় পরিচালনা করে, যেখানে ৩০ লক্ষেরও বেশি ছাত্রছাত্রী শিক্ষা লাভ করে। একক শিক্ষকের বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে। বিদ্যা ভারতীর শিক্ষাক্রমে ভারতীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের ওপর জোর দেওয়া হয়।
সরস্বতী শিশু মন্দির (Saraswati Shishu Mandir)
সরস্বতী শিশু মন্দির বিদ্যা ভারতীর অধীনে পরিচালিত একটি বিদ্যালয় নেটওয়ার্ক। এটি ভারতীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ ভিত্তিক শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে শিশুদের চরিত্র গঠন ও জাতীয় চেতনা বিকাশে কাজ করে।
ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল — বিএসএম (Bharatiya Shikshan Mandal)
ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল ভারতীয় জ্ঞান ব্যবস্থা, শিক্ষা নীতি, শিক্ষক নেটওয়ার্ক ও পাঠ্যক্রম চিন্তা-ভাবনার ওপর কাজ করে। এটি ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় দেশীয় জ্ঞান ও মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্তির জন্য গবেষণা ও নীতি-পক্ষসমর্থন করে।
একল বিদ্যালয় (Ekal Vidyalaya)
একল বিদ্যালয় গ্রামীণ ও আদিবাসী এলাকায় একক শিক্ষকের বিদ্যালয় মডেলে শিক্ষা প্রদান করে। এটি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ১,০০,০০০-এরও বেশি একল বিদ্যালয় পরিচালনা করে, যেখানে লক্ষ লক্ষ শিশু শিক্ষা লাভ করছে। এই মডেলটি সাশ্রয়ী ও কার্যকরী হওয়ায় গ্রামীণ শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সংস্কৃত ভারতী (Samskrita Bharati)
সংস্কৃত ভারতী সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যের প্রচার-প্রসারে কাজ করে। কথোপকথনমূলক সংস্কৃত শিক্ষা শিবির ও প্রকাশনার মাধ্যমে ভাষাটিকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়। এটি "সংস্কৃতং কথনং শিক্ষ্যতে" (সংস্কৃত বলতে শিখুন) এই স্লোগানে সারা দেশে সংস্কৃত শিক্ষা শিবির পরিচালনা করে।
ভারতীয় সাহিত্য পরিষদ (Bharatiya Sahitya Parishad)
ভারতীয় সাহিত্য পরিষদ ভারতীয় ভাষা, সাহিত্য ও লেখক সম্মেলনের ক্ষেত্রে কাজ করে। দেশীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চা প্রসারে সাহিত্যিকদের সংগঠিত করে। এটি বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় সাহিত্য চর্চা ও প্রকাশনাকে উৎসাহিত করে।
নারী ও যুব অনুষঙ্গ
রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি (Rashtra Sevika Samiti)
রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি হল নারীদের জন্য সংঘের সমতুল্য সংগঠন। ১৯৩৬ সালে লক্ষ্মীবাই কেলকোর (মৌসীজী) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। নারী সমাজে আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পরিচালনা করে। ভারতীয় মূল্যবোধ ও নারী সশক্তিকরণের ক্ষেত্রে সক্রিয়। সমিতির সারা দেশে হাজার হাজার শাখা রয়েছে, যেখানে নারীরা যোগব্যায়াম, শারীরিক প্রশিক্ষণ ও দেশাত্মবোধক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
ক্রীড়া ভারতী — ক্রীড়া ভারতী (Krida Bharati)
ক্রীড়া ভারতী দেশীয় ক্রীড়া, শারীরিক সক্ষমতা ও যুব প্রশিক্ষণে কাজ করে। ভারতীয় খেলাধুলার ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও যুব স্বাস্থ্য উন্নয়নে সক্রিয়। এটি গ্রামীণ ও আদিবাসী অঞ্চলে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজন করে।
আরোগ্য ভারতী (Arogya Bharati)
আরোগ্য ভারতী স্বাস্থ্যজাগরণ, আয়ুর্বেদ, যোগ ও গ্রামীণ স্বাস্থ্যচর্চায় কাজ করে। স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করে। এটি যোগ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাস্থ্য সুরক্ষার পক্ষে জনমত গঠন করে এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্য শিবির পরিচালনা করে।
ন্যাশনাল মেডিকস অর্গানাইজেশন — এনএমও (National Medicos Organisation)
ন্যাশনাল মেডিকস অর্গানাইজেশন চিকিৎসক ও মেডিকেল ছাত্রদের জাতীয়তাবাদী সংগঠন। স্বাস্থ্যশিবির, গবেষণা ও সেবামূলক কাজের মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখে। এটি চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নীতি নিয়ে কাজ করে এবং দেশীয় চিকিৎসা পদ্ধতি প্রচারে সক্রিয়।
মিডিয়া ও গবেষণা অনুষঙ্গ
বিশ্ব সংবাদ কেন্দ্র — ভিএসকে (Vishwa Samvad Kendra)
বিশ্ব সংবাদ কেন্দ্র সংবাদ, মতামত ও মিডিয়া যোগাযোগের মাধ্যমে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী তথ্যপ্রচার করে। দেশীয় সংবাদ মাধ্যমের বিকল্প প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। এর বিভিন্ন রাজ্যে শাখা রয়েছে, যা স্থানীয় ভাষায় সংবাদ ও মতামত প্রকাশ করে।
অর্গ্যানাইজার — অর্গ্যানাইজার (Organiser)
অর্গ্যানাইজার একটি ইংরেজি সাপ্তাহিক পত্রিকা, যা সংঘমনা দৃষ্টিকোণ থেকে সংবাদ ও ভাষ্য প্রকাশের জন্য পরিচিত। ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পত্রিকাটি ভারতীয় জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুখপত্র।
পঞ্চজন্য (Panchjanya)
পঞ্চজন্য একটি হিন্দি সাপ্তাহিক পত্রিকা যা জাতীয়তাবাদী ও সংঘমনা ভাষ্যের জন্য পরিচিত। এটি হিন্দি ভাষাভাষী এলাকায় সংঘের দৃষ্টিভঙ্গি প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
হিন্দুস্থান সমাচার (Hindusthan Samachar)
হিন্দুস্থান সমাচার একটি বহুভাষিক সংবাদ সংস্থা যা সংঘ-সংযুক্ত মিডিয়া ইতিহাসের আলোচনায় প্রায়ই উল্লিখিত হয়। এটি একাধিক ভারতীয় ভাষায় সংবাদ সরবরাহ করে।
দীনদয়াল গবেষণা সংস্থান — ডিআরআই (Deendayal Research Institute)
দীনদয়াল গবেষণা সংস্থান গ্রামীণ উন্নয়ন, স্বনির্ভরতা ও একাত্ম মানববাদ বিষয়ক গবেষণায় কাজ করে। নীতি প্রণয়ন ও গবেষণা প্রকাশনার মাধ্যমে সমাজ সংস্কারে ভূমিকা রাখে। এটি নানাজী দেশমুখ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এবং গ্রামীণ স্বনির্ভরতার মডেল হিসেবে চিহ্নিত।
অখিল ভারতীয় ইতিহাস সংগ্রহ যোজনা — এবিআইএসওয়াই (Akhil Bharatiya Itihas Sankalan Yojana)
অখিল ভারতীয় ইতিহাস সংগ্রহ যোজনা ভারতকেন্দ্রিক ইতিহাসচর্চা ও আঞ্চলিক ইতিহাস সংগ্রহে কাজ করে। দেশীয় ঐতিহ্য ও গৌরবময় অতীত সম্পর্কে গবেষণা ও প্রকাশনা পরিচালনা করে। এটি ভারতীয় ইতিহাসের বিকৃত ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে সঠিক ইতিহাসচর্চার পক্ষে কাজ করে।
বিজ্ঞান ভারতী — বিগ্যান ভারতী (Vijnana Bharati)
বিজ্ঞান ভারতী স্বদেশী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসার, বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ ও বিজ্ঞানীদের নেটওয়ার্ক গঠনে কাজ করে। দেশীয় গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে। এটি ভারতের প্রাচীন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত ঐতিহ্যকে আধুনিক প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করার কাজ করে।
অখিল ভারতীয় অধিবক্তা পরিষদ (Akhil Bharatiya Adhivakta Parishad)
অখিল ভারতীয় অধিবক্তা পরিষদ আইনজীবীদের একটি সংগঠন যা সাংবিধানিক বিতর্ক, আইনি সচেতনতা ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থার বিষয়ে সক্রিয়। এটি আইন ও বিচার সংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে।
গঙ্গা সমগ্র (Ganga Samagra)
গঙ্গা সমগ্র গঙ্গা ও নদী সংরক্ষণ, জলজাগরণ ও পরিবেশ সচেতনতায় কাজ করে। পবিত্র নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় জনমত গঠন ও কর্মসূচি পরিচালনা করে। এটি গঙ্গা নদীর পরিচ্ছন্নতা ও ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে।
বিবেকানন্দ কেন্দ্র (Vivekananda Kendra)
বিবেকানন্দ কেন্দ্র কন্যাকুমারী ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান যা যোগ, শিক্ষা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও জাতীয় চেতনা কর্মসূচির জন্য পরিচিত। এটি স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে কাজ করে এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জাতীয় চেতনা ও সেবামূলক মনোভাব গড়ে তোলে।
বিদেশি অনুষঙ্গ
হিন্দু স্বয়ংসেবক সংঘ — এইচএসএস (Hindu Swayamsevak Sangh)
হিন্দু স্বয়ংসেবক সংঘ (HSS) বিদেশে সংঘের শাখা পরিচালনা করে। এটি বিভিন্ন দেশে ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে শাখা, সংস্কৃতি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের সংগঠনের জন্য কাজ করে। HSS-এর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চলে শাখা রয়েছে।
সেবা ইন্টারন্যাশনাল (Sewa International)
সেবা ইন্টারন্যাশনাল ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায় ও অংশীদার সম্প্রদায়ের মধ্যে ত্রাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালনা করে। এটি বিভিন্ন দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রকল্প বাস্তবায়ন করে।
হিন্দু স্টুডেন্টস কাউন্সিল — এইচএসসি (Hindu Students Council)
হিন্দু স্টুডেন্টস কাউন্সিল উত্তর আমেরিকা ভিত্তিক একটি হিন্দু ছাত্র সংগঠন যা সংস্কৃতি, ক্যাম্পাস পরিচয় ও সম্প্রদায় ইভেন্টের ওপর কেন্দ্রিত। এটি বিদেশে হিন্দু ছাত্রদের মধ্যে সাংস্কৃতিক চেতনা ও সম্প্রদায়ের বন্ধন দৃঢ় করার জন্য কাজ করে।
ন্যাশনাল হিন্দু স্টুডেন্টস ফোরাম — এনএইচএসএফ (National Hindu Students Forum)
ন্যাশনাল হিন্দু স্টুডেন্টস ফোরাম যুক্তরাজ্য ভিত্তিক একটি হিন্দু ছাত্র নেটওয়ার্ক যা ক্যাম্পাস ইভেন্ট, সম্প্রদায় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার জন্য সক্রিয়।
ইন্ডিয়া ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিলিফ ফান্ড — আইডিআরএফ (India Development and Relief Fund)
ইন্ডিয়া ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিলিফ ফান্ড যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক একটি উন্নয়ন ও ত্রাণ দাতব্য সংস্থা যা ভারতের নাগরিক-সমাজ সহায়তা নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত। এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন করে।
অন্যান্য অনুষঙ্গ
সংস্কার ভারতী (Sanskar Bharati)
সংস্কার ভারতী সংগীত, নৃত্য, থিয়েটার, চাক্ষুষ শিল্প, লোকসংস্কৃতি ও জাতীয় সাংস্কৃতিক চিন্তার ক্ষেত্রে কাজ করে। এটি ভারতীয় সংস্কৃতি ও শিল্পকলার প্রচার-প্রসারে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মশালা আয়োজন করে।
ভারত-তিব্বত সহযোগ মঞ্চ — বিটিএসএস (Bharat Tibet Sahyog Manch)
ভারত-তিব্বত সহযোগ মঞ্চ তিব্বত, সীমান্ত ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত জনসচেতনতার জন্য কাজ করে। এটি তিব্বতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি সমর্থন ও ভারত-তিব্বত সাংস্কৃতিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করে।
মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চ — এমআরএম (Muslim Rashtriya Manch)
মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চ জাতীয়তাবাদী সংলাপ, সামাজিক কর্মসূচি ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে। এটি দেশীয় জাতীয়তাবাদী ধারার সাথে মুসলিম সম্প্রদায়কে যুক্ত করার প্রচেষ্টা করে।
রাষ্ট্রীয় শিখ সংগত (Rashtriya Sikh Sangat)
রাষ্ট্রীয় শিখ সংগত শিখ সমাজ ও বৃহত্তর ভারতীয় সাংস্কৃতিক সংলাপের ক্ষেত্রে কাজ করে। এটি শিখ সম্প্রদায়ের সাথে সংঘের সম্পর্ক ও সমন্বয় স্থাপনের জন্য কাজ করে।
সাংস্কৃতিক ও পরিবেশ অনুষঙ্গ
বিবেকানন্দ কেন্দ্র (যোগ, শিক্ষা, গ্রামীণ উন্নয়ন — ১৯৭২), গঙ্গা সমগ্র (নদী সংরক্ষণ — ২০১১), ক্রীড়া ভারতী (ক্রীড়া ও যুব উন্নয়ন — ১৯৯২) প্রমুখ সংগঠন পরিবেশ, সংস্কৃতি ও যুব উন্নয়নের ক্ষেত্রে সক্রিয়। এই সংগঠনগুলি ভারতীয় ঐতিহ্য ও প্রকৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি যুব প্রজন্মের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক উন্নয়নে কাজ করে।
সময়রেখা (১৯২৫–বর্তমান)
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপঞ্জি:
| বছর | ঘটনা |
|---|---|
| ১৯২৫ | ডা. কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার নাগপুরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন |
| ১৯২৬ | প্রথম শাখা শুরু হয় মহারাষ্ট্রের ওয়ার্ধায় |
| ১৯২৯ | প্রথম সংঘ শিবির অনুষ্ঠিত হয় |
| ১৯৩৬ | রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয় — লক্ষ্মীবাই কেলকরের নেতৃত্বে |
| ১৯৩৯ | হেডগেওয়ার গ্রেফতার ও জেলে যান; সংঘ কার্যক্রম ব্যাহত হয় |
| ১৯৪০ | ডা. হেডগেওয়ারের মৃত্যু; গুরু গোলওয়ালকর দ্বিতীয় সরসঙ্ঘচালক হন |
| ১৯৪৭ | ভারত স্বাধীন; সংঘ দেশসেবায় মনোনিবেশ করে |
| ১৯৪৮ | মহাত্মা গান্ধী হত্যার পর সংঘ নিষিদ্ধ; গোলওয়ালকর গ্রেফতার |
| ১৯৪৯ | নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার; এবিভিপি প্রতিষ্ঠিত |
| ১৯৫১ | ভারতীয় জন সংঘ প্রতিষ্ঠিত — শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর নেতৃত্বে |
| ১৯৫২ | বনবাসী কল্যাণ আশ্রম প্রতিষ্ঠিত |
| ১৯৫৫ | ভারতীয় মজদুর সংঘ (BMS) প্রতিষ্ঠিত — দত্তোপন্ত ঠেঙ্গাড়ীর নেতৃত্বে |
| ১৯৬৩ | ভারত বিকাশ পরিষদ প্রতিষ্ঠিত |
| ১৯৬৪ | বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP) প্রতিষ্ঠিত |
| ১৯৬৬ | ভারতীয় সাহিত্য পরিষদ প্রতিষ্ঠিত |
| ১৯৬৮ | দীনদয়াল গবেষণা সংস্থান (DRI) প্রতিষ্ঠিত |
| ১৯৬৯ | ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল প্রতিষ্ঠিত |
| ১৯৭২ | বিবেকানন্দ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত |
| ১৯৭৩ | মধুকর দত্তাত্রেয় দেওরাস তৃতীয় সরসঙ্ঘচালক; ইতিহাস সংগ্রহ যোজনা শুরু |
| ১৯৭৪ | গ্রাহক পঞ্চায়েত প্রতিষ্ঠিত |
| ১৯৭৫ | জরুরি অবস্থা ঘোষণা; সংঘের ওপর নিষেধাজ্ঞা |
| ১৯৭৭ | বিদ্যা ভারতী ও ন্যাশনাল মেডিকস অর্গানাইজেশন প্রতিষ্ঠিত |
| ১৯৭৯ | সেবা ভারতী, ভারতীয় কিষাণ সংঘ ও সহকার ভারতী প্রতিষ্ঠিত |
| ১৯৮০ | ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) প্রতিষ্ঠিত |
| ১৯৮১ | সংস্কৃত ভারতী ও সংস্কার ভারতী প্রতিষ্ঠিত |
| ১৯৮২ | হিন্দু জাগরণ মঞ্চ প্রতিষ্ঠিত |
| ১৯৮৩ | সামাজিক সমরসতা মঞ্চ প্রতিষ্ঠিত |
| ১৯৮৪ | বজরং দল ও দুর্গা বাহিনী প্রতিষ্ঠিত |
| ১৯৮৬ | একল বিদ্যালয় ও রাষ্ট্রীয় শিখ সংগত প্রতিষ্ঠিত |
| ১৯৮৮ | ইন্ডিয়া ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিলিফ ফান্ড (IDRF) প্রতিষ্ঠিত |
| ১৯৯০ | রাম জন্মভূমি আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা; হিন্দু স্টুডেন্টস কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত |
| ১৯৯১ | স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ, বিজ্ঞান ভারতী, ও ন্যাশনাল হিন্দু স্টুডেন্টস ফোরাম প্রতিষ্ঠিত |
| ১৯৯২ | ক্রীড়া ভারতী ও অখিল ভারতীয় অধিবক্তা পরিষদ প্রতিষ্ঠিত |
| ১৯৯৩ | সেবা ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠিত |
| ১৯৯৪ | রাজেন্দ্র সিং (রাজ্জু ভাইয়া) চতুর্থ সরসঙ্ঘচালক; লঘু উদ্যোগ ভারতী প্রতিষ্ঠিত |
| ১৯৯৯ | ভারত-তিব্বত সহযোগ মঞ্চ প্রতিষ্ঠিত |
| ২০০০ | কে.এস. সুদর্শন পঞ্চম সরসঙ্ঘচালক |
| ২০০২ | মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চ ও আরোগ্য ভারতী প্রতিষ্ঠিত |
| ২০০৮ | সক্ষম প্রতিষ্ঠিত |
| ২০০৯ | ডা. মোহন ভাগবত ষষ্ঠ ও বর্তমান সরসঙ্ঘচালক |
| ২০১১ | গঙ্গা সমগ্র প্রতিষ্ঠিত |
| ২০১৪ | বিজেপি কেন্দ্রে সরকার গঠন; নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী |
| ২০২৫ | সংঘ শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি; সারা ভারতে বিশেষ কর্মসূচি |
আরও দেখুন
- সমস্ত সংগঠনের তালিকা — সংঘ পরিবারের ৪৬+ অনুষঙ্গের বিস্তারিত তথ্য
- আমাদের সম্পর্কে — এই প্রকল্প সম্পর্কে জানুন
- রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) — মূল সংগঠনের পাতা
- উইকিপিডিয়ায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ
সমাজসেবা ও কর্মকাণ্ড
সংঘের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড অত্যন্ত বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যপূর্ণ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ত্রাণ, গ্রামীণ উন্নয়ন, আদিবাসী কল্যাণ, নারী সশক্তিকরণ, যুব উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে সংঘ ও তার অনুষঙ্গগুলি কাজ করে।
শিক্ষা: বিদ্যা ভারতী ও সরস্বতী শিশু মন্দির নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ২০,০০০-এরও বেশি বিদ্যালয় পরিচালিত হয়। একল বিদ্যালয় ১,০০,০০০-এরও বেশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয় পরিচালনা করে। এই বিদ্যালয়গুলি গ্রামীণ ও আদিবাসী শিশুদের শিক্ষার সুযোগ করে দেয়।
স্বাস্থ্য: সেবা ভারতী, আরোগ্য ভারতী ও অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য শিবির, আয়ুর্বেদ, যোগ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি পরিচালিত হয়। দুর্যোগের সময়ে ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়।
দুর্যোগ ত্রাণ: বন্যা, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে সংঘের স্বেচ্ছাসেবকরা সক্রিয়ভাবে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাজে অংশগ্রহণ করে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় সংঘের স্বেচ্ছাসেবকরা অক্সিজেন সিলিন্ডার, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আদিবাসী কল্যাণ: বনবাসী কল্যাণ আশ্রম আদিবাসী এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পরিচালনা করে। এটি আদিবাসী শিশুদের জন্য হোস্টেল ও বিদ্যালয় পরিচালনা করে।
নারী সশক্তিকরণ: রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি ও দুর্গা বাহিনী নারীদের আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পরিচালনা করে। নারী সমাজে ভারতীয় মূল্যবোধ ও সশক্তিকরণের ক্ষেত্রে এই সংগঠনগুলি সক্রিয়।
পরিবেশ: গঙ্গা সমগ্র নদী সংরক্ষণ ও জলজাগরণে কাজ করে। বৃক্ষরোপণ, জল সংরক্ষণ ও পরিবেশ সচেতনতা কর্মসূচি নিয়মিত পরিচালিত হয়।